শব্দ ও কথার উৎপত্তি

অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট

সাধারণত বেশি মানুষের অংশগ্রহণে কাজ পণ্ড হলে আমরা অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট কথাটি ব্যবহার করে থাকি। এই শব্দের পেছনে অবশ্য একটি ইতিহাসও আছে।
শিবের গাজন বা চড়কপূজাকে ঠিক পৌরাণিক আচার বলা যায় না। ধারণা করা হয় এই পূজার প্রচলন হয়েছে অনেক পরে। এছাড়া আরও ধারণা করা হয় যে গাজনের প্রচলন হয়েছে খুব সম্ভবত বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবে। বৌদ্ধধর্মের ধর্মরাজ হিন্দুধর্মে এসে ধর্মঠাকুরে রূপান্তরিত হন। গাজন বা চড়ক ছিল মূলত এই ধর্মঠাকুরের পূজা। পরে সেটা শিবের গাজনে রূপ নেয়। এই শিবের গাজন বা ধর্মঠাকুরের গাজন অনুষ্ঠিত হয় চৈত্র সংক্রান্তিতে।

গ্রামের জনসাধারণ সচ্ছল ভবিষ্যতের আশায় এই গাজন পালন করে থাকে। ধারণা করা হয় গ্রাম বা গাঁয়ের থেকে ‘গা’ এবং
জনসাধারণের থেকে ‘জন’ শব্দদ্বয় নিয়ে গাজন শব্দটি গঠিত হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে বাঁচতে এবং সূর্যের সাথে পৃথিবীর বিয়ে দিতেই নাকি এই চড়কের উদ্ভব হয়েছিল। আবার এমন লোকবিশ্বাসও আছে যে এই গাজনের দিনেই নাকি শিব-পার্বতীর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে দিনটিকে উদ্‌যাপন করতেই শিবের গাজন উৎসব পালন করা হয়। আর সেই গাজনে যেসব সন্ন্যাসীরা জড়ো হন তাঁরা নাকি বিয়ের বরযাত্রী হিসেবে আসেন।

এই গাজন বা চড়কপূজায় যে মেলা হয় সেখানে সন্ন্যাসীরাই সকলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। তাঁরা কেবল শিবের স্তুতিই করে তা নয়, নানা ধরনের শারীরিক কসরতও দেখায়। এমনকি শিবের প্রতি আনুগত্য প্রকাশের জন্য তাঁরা নানা ধরনের শারীরিক কষ্টও সহ্য করে। সব মিলিয়ে শিবের গাজনে অর্থাৎ গাজনের মেলায় বা চড়কপূজায় অনেক সন্ন্যাসী একত্র হন। প্রায়ই সেই সন্ন্যাসীদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয় আর তা থেকে অনেক সময় ঝগড়াঝাঁটিও লেগে যায়। এভাবে তাঁরা শিবের স্তুতি করতে জড়ো হলেও উলটা শিবের পূজা একরকম পণ্ড করে। এরকম হলে—মানে অনেকে মিলে একটা কাজ করতে গিয়ে উলটা দ্বন্দ্ব-কোন্দল করে সে কাজ পণ্ড করে দিলে তখন টিপ্পনী কেটে বলা হয় ‘অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’।

সম্পূর্ণ দেখুন

ফারহান সাদিক শাহীন

পরিচালক, প্রমিত বাংলা চর্চা | শিক্ষার্থী (স্নাতক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন

Back to top button
Close