ব্যাকরণ

পদাশ্রিত নির্দেশক – টি, টা, খানা, খানি

প্রায় প্রতিটি বাক্যেই আমাদেরকে পদাশ্রিত নির্দেশক ব্যবহার করতে হয়। বহুল ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশকগুলো হচ্ছে—টি, টা, খানা, খানি, টুকু, টুকুন, টাক, পাটি, কেতা, তা, গোটা।

টি, টা—সাধারণত গণনা করা যায় এমন ব্যক্তি বা বস্তুর নির্দেশক হিসেবে টি, টা ব্যবহৃত হয়। তবে অল্প কিছু জায়গায় গণনা-অযোগ্য বস্তুর ক্ষেত্রেও টি, টা ব্যবহৃত হতে পারে।
সাধারণত আদরার্থে ‘টি’ ব্যবহৃত হয়; খুব বেশি প্রিয় না হলে ‘টা’ ব্যবহৃত হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. আমার ছেলেটি এত দুষ্টু।
২. ঝাড়ুটা দাও তো।
৩. বাবুকে বলটা দাও।
৪. তোমার ন্যাকামিটা রাখো।
৫. আমায় একটা গান শোনাও।
৬. চোরটাকে বেঁধে রাখো।
৭. এর মধ্যে কোনটি তোমার?
৮. আমার পাখিটা শিস দিতে শিখেছে।
৯. বিন্দুর ছেলেটা ভারি বজ্জাত।
১০. আপাতত পড়াশোনাটা চালিয়ে যাও।

দ্রষ্টব্য—টি, টা সবসময় শব্দের সাথে বসবে; তবে অর্থ বিভ্রান্তির সম্ভাবনা থাকলে টা, টি হাইফেনযোগে বসানো যেতে পারে যেমন—চা-টা দাও। আমরা অনেকেই টি, টা, খানা প্রভৃতি ফাঁকা রেখে লিখি যেটা একেবারেই ঠিক নয়।

খানা—গণনাযোগ্য এবং গণনার অযোগ্য ব্যক্তি বা বস্তুর নির্দেশক হিসেবে ‘খানা’ ব্যবহৃত হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. দুখানা পরোটা দাও।
২. ভাবখানা এমন যে ভাজা মাছও উলটে খেতে জানে না।
৩. তিনখানা চিঠি লিখেছিলাম তারে।
৪. আমার দেহখানা বুঝি আর চলে না।

খানি—স্বল্পতা বোঝাতে ‘খানি’ ব্যবহৃত হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. একখানি ছোটো খেত আমি একেলা।
২. বৃষ্টি একটুখানি শান্তির পরশ জোগায়।
৩. তোমার একটুখানি হাসি আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

টুকু, টুকুন, টাক—এই পদাশ্রিত নির্দেশক তিনটি স্বল্পতা নির্দেশক।
দৃষ্টান্ত :
১. এতটুকু খাবারে সবার হবে না।
২. এতটুকুন বাচ্চার সে কী বুদ্ধি!
৩. পোয়াটাক দুধ দাও।
৪. এতটুকু বুদ্ধি যার নেই, সে ব্যাবসা করবে কীভাবে?

পাটি, কেতা, তা, গোটা—এই চারটি পদাশ্রিত নির্দেশক নির্দিষ্টতা/সম্পূর্ণ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. দুই পাটি জুতা দেখান তো।
২. এই পাঁচ কেতা জমির দাম লক্ষ টাকা।
৩. গোটা পাঁচেক আম নিয়ে এসো।
৪. দুই তা কাগজ দিন।
৫. ৩২ পাটি দাঁত বের করে হাসবে না তো।
৬. গোটা আমটাই সাবাড় করে দিলে!
৭. আরও কুল পাড়ো গোটা ছয়।

সম্পূর্ণ দেখুন

ফারহান সাদিক শাহীন

পরিচালক, প্রমিত বাংলা চর্চা | শিক্ষার্থী (স্নাতক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন

আরও পড়ুন
Close
Back to top button
Close