Uncategorized

যতি বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার

যতি বা বিরামচিহ্ন লেখার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যতিচিহ্নের সামান্য ভুল প্রয়োগে বদলে যেতে পারে বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থ। চলুন জেনে নেওয়া যাক যতিচিহ্নের যথাযথ ব্যবহার।

কমা—সাধারণত পূর্ণ বাক্যের শেষে কমা বসে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় কমা বসতে পারে যেমন:—একাধিক শব্দের মাঝে, সম্বোধনের পরে, প্রত্যক্ষ উক্তিতে, তারিখের ক্ষেত্রে বার বা মাসের পরে, বাক্যের যে-কোনো স্থানে বিরতির প্রয়োজনেও কমা ব্যবহার করা যাবে।

কমার ক্ষেত্রে বিরতিকাল ‘১ বলতে যে সময় লাগে’ তার সমান।

দৃষ্টান্ত :
১. যদি বই পড়ো, তাহলে ভালো ফলাফল করবে।
২. বাজার থেকে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ নিয়ে এসো।
৩. আসিফ বলল, “আমি আজ অফিসে যাব না।”
৪. রবিবার, ২৩শে মে, ২০২০ খ্রিষ্টাব্দ।
৫. ৪০, গ্রিনরোড, ধানমন্ডি/ধানমণ্ডি, ঢাকা—১২০৫।

দাঁড়ি—বাক্যের শেষে দাঁড়ি বসে। দাঁড়ির ক্ষেত্রে বিরতিকাল ১ সেকেন্ড।
দৃষ্টান্ত :
১. তার মতো সুখী আর কেউ নেই।
২. হাতে কাজ করায় অগৌরব নেই।

সেমিকোলন—একটি বাক্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত বাক্য লিখতে সেমিকোলন ব্যবহৃত হবে।
সেমিকোলনের ক্ষেত্রে বিরতিকাল ‘১ বলার দ্বিগুণ সময়’।
দৃষ্টান্ত :
১. সততার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা নিহিত; আর তাতে রয়েছে অনাবিল সুখ।
২. কাজ করে যাও; একদিন সফলতা পাবেই।

কোলন—অসম্পূর্ণ শব্দ বা বাক্যের পরে আরেকটি বাক্য যুক্ত করতে হলে কোলন ব্যবহৃত হবে। কোলনের বিকল্প হিসেবে ড্যাশ চিহ্নও লেখা যেতে পারে। কোলনের ক্ষেত্রে বিরতিকাল ১ সেকেন্ড।
দৃষ্টান্ত :
১. রিহানসহ তিন বন্ধু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল : তারা একত্রে ব্যাবসা শুরু করবে।
২. নাম : রাইসা নাসের।

ড্যাশ চিহ্ন—দুটি বা তার অধিক বাক্যের সংযোগ ঘটাতে ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বিস্তৃতি বা দৃষ্টান্ত প্রয়োগ করতেও ড্যাশ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
ড্যাশ চিহ্নের ক্ষেত্রে বিরতিকাল ১ সেকেন্ড।
দৃষ্টান্ত :
১. কাজ করলে সম্মান কমে না—সম্মান বাড়ে।
২. আমি চুপিচুপি বেরিয়ে গেলাম—সে আমাকে হাতের ইশারায় ডাকল।

কোলন ড্যাশ—উদাহরণের ক্ষেত্রে অনেকগুলো আলাদা উদাহরণ (শব্দ) এক বাক্যে বসলে কোলন ড্যাশ ব্যবহৃত হয়। তবে বর্তমানে কোলন ড্যাশের ব্যবহার খুুবই কম। কোলন ড্যাশের ক্ষেত্রে বিরতিকাল ১ সেকেন্ড।
দৃষ্টান্ত :
১. বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার পাঁচটি:—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা।
২. পদ পাঁচ প্রকার :—বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, অব্যয় ও ক্রিয়া।

হাইফেন—সমাসবদ্ধ পদের বিভিন্ন অংশকে আলাদাভাবে দেখানোর জন্য হাইফেন ব্যবহৃত হয়। হাইফেনের ক্ষেত্রে বিরতির প্রয়োজন নেই।
দৃষ্টান্ত :
১. আমার মা-বাবা অনেক পরিশ্রমী।
২. তাদের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক।

ইলেক চিহ্ন—কোনো বর্ণের বিলোপের জন্য ইলেক চিহ্ন  ব্যবহৃত হয়। ইলেক চিহ্নের ক্ষেত্রে বিরতির প্রয়োজন নেই।
দৃষ্টান্ত :
১. রিজভান প্রবাচ’র প্রতিষ্ঠাতা।
২. রহিম’র নতুন বাড়িটা বেশ সুন্দর।

জোড়-উদ্ধৃতি চিহ্ন—প্রত্যক্ষ উক্তি বোঝাতে জোড়-উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। জোড়-উদ্ধৃতি চিহ্নের বিরতিকাল ‘১ বলতে যে সময় লাগে’ তার সমতুল্য।
দৃষ্টান্ত :
১. রাজা বললেন, “খাসনবিশের গর্দান নাও।”
২. সাজিদ বলল, “আমি আজ অসুস্থ।”

বন্ধনী চিহ্ন—প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে প্রথমটি ও দ্বিতীয়টি বাংলায় ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এক বা একাধিক শব্দের ব্যাখ্যা প্রদানে প্রথম বন্ধনী ব্যবহৃত হয়।
বাক্যের অর্থ অস্পষ্ট থাকলে তৃতীয় বন্ধনী ব্যবহার করা যায়।
দৃষ্টান্ত :
১. ড. আনিসুজ্জামান (শিক্ষাবিদ) ইন্তেকাল করেছেন।
২. দুর্ঘটনার সময় আমি ছিলাম না [ঘটনাস্থলে]।

বিস্ময়সূচক চিহ্ন—সুগভীর আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
বিস্ময়সূচক চিহ্নের ক্ষেত্রে বিরতিকাল ১ সেকেন্ড।
যেমন—
১. কী অপরূপ দৃশ্য!
২. সে এক আজব দৃশ্য!

প্রশ্নবোধক চিহ্ন—কোনোকিছু জিজ্ঞেস করার ক্ষেত্রে বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্নবোধক চিহ্নের ক্ষেত্রে বিরতিকাল ১ সেকেন্ড।
দৃষ্টান্ত :
১. তুমি কখন এলে?
২. তুমি কি আজ বাজারে যাবে?

এছাড়া আরও কিছু যতিচিহ্ন বর্তমানে ব্যবহৃত হতে দেখা যায়।
ত্রিবিন্দু—কোনো বাক্য অসমাপ্ত রাখতে ত্রিবিন্দু ব্যবহৃত হয়।
যেমন—
১. মুহূর্তেই ট্রাকটি পাগলটাকে চাপা দিয়ে গেল, তারপর…
২. নিতাই অচেনা পথের দিকে মিলিয়ে গেল…

বিকল্প চিহ্ন—দুটির মধ্যে তুলনা বা দুটির মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য হলে বিকল্প চিহ্ন বসে।
দৃষ্টান্ত :
১. আমি ২/৩ মাস ঢাকার বাইরে থাকব।
২. রহিম/করিম যে-কোনো একজন এলেই হবে।

এক উদ্ধৃতি চিহ্ন—বাক্যের কোনো অংশের প্রতি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণের প্রয়োজন হলে এক উদ্ধৃতি চিহ্ন ব্যবহার করা যায়।
দৃষ্টান্ত :
১. বাংলাদেশে ‘করোনাভাইরাসে’ মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে।
২. আমাদেরকে ‘পড়াশোনার’ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।

ডট চিহ্ন—কোনোকিছুকে সংক্ষেপ করতে ডট চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে।
দৃষ্টান্ত :
১. মো. আসলাম উদ্দীন।
২. ডা. মৃণাল কান্তি।

ধাতুদ্যোতক চিহ্ন—ধাতুকে চিহ্নিত করার জন্য এটা ব্যবহার করা হয়।
দৃষ্টান্ত :
১. বি+আ+ √কৃ+অন = ব্যাকরণ
২. √ভূ+ইন = ভাবী।

সমান চিহ্ন—দুটি বিষয়বস্তু সমতুল্য হলে তাদের মাঝে সমান চিহ্ন বসে।
দৃষ্টান্ত :
. জায়া ও পতি = দম্পতি।
২. মন রূপ মাঝি = মনমাঝি।

উৎপত্তি নির্দেশক চিহ্ন : কোনো শব্দের উৎপত্তি নির্দেশক চিহ্ন হিসেবে এই দুটি চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
ক. পূর্ববর্তী শব্দ থেকে উৎপন্ন : হস্ত>হাত।
খ. পরবর্তী শব্দ থেকে উৎপন্ন : রানি<রাজ্ঞী।

চিহ্নের নামসংকেত
কমা,
দাঁড়ি
সেমিকোলন;
ড্যাশ
কোলন:
কোলনড্যাশ:—
বিস্ময়সূচক চিহ্ন !
প্রশ্নবোধক চিহ্ন ?
জোড়-উদ্ধৃতি চিহ্ন “ ”
এক উদ্ধৃতি চিহ্ন ‘ ’
ইলেক চিহ্ন
বন্ধনী(), {}, []
হাইফেন
ত্রিবিন্দু
বিকল্প চিহ্ন /
ডট চিহ্ন .
সমান=
ধাতুদ্যোতক চিহ্ন
উৎস নির্দেশক চিহ্ন >, <
যতিচিহ্নসমূহ

সম্পূর্ণ দেখুন

ফারহান সাদিক শাহীন

পরিচালক, প্রমিত বাংলা চর্চা (প্রবাচ), শিক্ষার্থী (স্নাতক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
Close